অসমভাবে উত্তপ্ত কোন পরিবাহকে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করলে পরিবাহতের কোথাও তাপের শোষণ হয় একে বলে-

Updated: 1 year ago
  • পেলসিয়ার ক্রিয়া
  • থমসন ক্রিয়া
  • জুলের সূত্র
  • সিবেক ক্রিয়া
1.2k
ব্যাখ্যাঃ

অসমভাবে উত্তপ্ত কোনো পরিবাহকের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করলে পরিবাহকের অভ্যন্তরে তাপের শোষণ বা উদ্ভব ঘটে, এই ঘটনাকে থমসন ক্রিয়া (Thomson effect) বলে। এর নামকরণ করা হয়েছে ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম থমসন, যিনি লর্ড কেলভিন নামেও পরিচিত ছিলেন, তার নামানুসারে। এই ক্রিয়াটি তাপবিদ্যুৎ (thermoelectricity) সংক্রান্ত একটি মৌলিক ঘটনা।

তাপমাত্রা নতিমাত্রা (temperature gradient) আছে এমন একটি পরিবাহকে তড়িৎ প্রবাহিত হলে পরিবাহকের বিভিন্ন অংশে তাপ উৎপন্ন বা শোষিত হতে পারে। থমসন ক্রিয়া অনুযায়ী, যদি একটি পরিবাহকের দুই প্রান্তের তাপমাত্রা ভিন্ন হয় এবং এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হয়, তাহলে পরিবাহকের প্রতিটি একক আয়তনে তাপ উৎপন্ন বা শোষিত হবে, যা পরিবাহকের উপাদান এবং তাপমাত্রা নতিমাত্রার উপর নির্ভরশীল।

অন্যান্য অপশনগুলো এই প্রসঙ্গে প্রযোজ্য নয়:

        
  • পেলসিয়ার ক্রিয়া (Peltier effect): এটি দুটি ভিন্ন পদার্থের সংযোগস্থলে ঘটে থাকে, যেখানে তড়িৎ প্রবাহের কারণে তাপ উৎপন্ন বা শোষিত হয়। এটি একটি সংযোগস্থলের (junction) ঘটনা, একক পরিবাহকের অভ্যন্তরের নয়।
  •     
  • জুলের সূত্র (Joule's law): এই সূত্র অনুযায়ী, কোনো পরিবাহকের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের কারণে তার রোধের (resistance) জন্য যে তাপ উৎপন্ন হয়, তার পরিমাণ তড়িৎ প্রবাহের বর্গের, রোধের এবং সময়ের গুণফলের সমানুপাতিক (\(H = I^2Rt\))। এটি কেবল তাপ উৎপাদন ব্যাখ্যা করে, অসম উত্তাপের কারণে তাপ শোষণ বা উদ্ভব নয়।
  •     
  • সিবেক ক্রিয়া (Seebeck effect): এটি দুটি ভিন্ন ধাতুর সংযোগস্থলকে ভিন্ন তাপমাত্রায় রাখলে তাদের মধ্যে বিভব পার্থক্য (potential difference) সৃষ্টির ঘটনা। এটি মূলত তাপমাত্রার পার্থক্য থেকে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টির নীতি, যা থমসন ক্রিয়ার বিপরীত।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago

সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা এক নয়। আবার কিছু কিছু পদার্থ তড়িৎ পরিবহনই করতে পারে না। তড়িৎ পরিবহনের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে পদার্থসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা :

 

১. তড়িৎ অপরিবাহী (Insulator) : যে সকল পদার্থের মধ্যদিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত অর্থাৎ চলাচল করতে পারে না তাদের তড়িৎ অপরিবাহী বলা হয়। সাধারণত সমযোজী যৌগসমূহই তড়িৎ পরিবহনে অক্ষম। যেমন— কাঁচ, রাবার, চিনি, পেট্রোল ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রায় সকল অধাতব মৌলসমূহই তড়িৎ অপরিবাহী।

২. তড়িৎ পরিবাহী (Conductor) : যে সমস্ত পদার্থের মধ্যদিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে তাদের তড়িৎ পরিবাহী বলা হয়। যেমন— সকল ধাতুসমূহ, এসিড এবং ক্ষারের দ্রবণ, সকল লবণের দ্রবণ ও গ্রাফাইট, সোনা, রূপা, কপার ইত্যাদি।

 

তড়িৎ পরিবাহীর প্রকারভেদ (Classification of electrical conductors)

তড়িৎ পরিবহনের কৌশলের উপর নির্ভর করে তড়িৎ পরিবাহী পদার্থসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন :

 

 

  • ধাতব পরিবাহী (Metallic Conductor ) : যে সকল তড়িৎ পরিবাহী পদার্থের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের সময় পদার্থের কোনোরূপ রাসায়নিক পরিবর্তন হয় না , তাদেরকে ধাতব পরিবাহী বলা হয়। সাধারণত ইলেকট্রনের প্রবাহের ফলে তড়িৎ প্রবাহিত হয় বলে ধাতব পরিবাহীসমূহকে ইলেকট্রনীয় পরিবাহীও বলা হয়। যেমন : সকল ধাতু, গ্রাফাইট (গ্রাফাইট অধাতব কঠিন মৌল হলেও সেটির মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ ঘটে)। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে ধাতব পরিবাহীর পরিবাহীতা হ্রাস পায়। যেহেতু রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেনা তাই এটি ভৌত পদ্ধতি।
  • তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী (Electrolytic Conductor) : যে সকল তড়িৎ পরিবাহী পদার্থের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে, পদার্থসমূহ রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থে পরিণত হয় তাদের তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী বলা হয়। তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থসমূহ বিগলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে এবং তড়িৎ পরিবহনের সময় পরিবাহীসমূহ বিশ্লেষিত হয়ে নতুন পদার্থে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ ঘটে।
  • ধনাত্মক আয়ন যে দিকে প্রবাহিত হয় তড়িৎ প্রবাহ সেদিকে এবং ঋণাত্মক আয়ন যেদিকে প্রবাহিত হয় তড়িৎ প্রবাহ তার বিপরীত দিকে ঘটে। যেহেতু তরলের মধ্য দিয়ে ক্যাটায়নগুলো ক্যাথোডে এবং অ্যানায়নগুলো অ্যানোডে যায় সেহেতু তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের মধ্যে সর্বদা অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে তড়িৎ প্রবাহ হয়। যেমন— সকল লবণসমূহের দ্রবণ, এসিড, ক্ষার ইত্যাদি।

তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থসমূহ আবার দুই প্রকার। যথা—

  • তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Strong Electrolyte) : যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থসমূহ দ্রবণে প্রায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত অবস্থায় থাকে তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলা হয়।
  • মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Weak Electrolyte) : যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ দ্রবণে আংশিক আয়নিত অবস্থায় থাকে তাদের মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলা হয়।

Related Question

View All
Updated: 1 year ago
  • লোহা ও কার্বনের শংকর
  • দস্তা ও নিকেলের শংকর
  • তামা ও পিতলের শংকর
  • দস্তা ও পিতলের শংকর
  • দস্তা ও তামার শংকর
1k
Updated: 1 year ago
  • লবণ
  • লোহা
  • চিনি
  • সোনা
2k
Updated: 1 year ago
  • NaCl (গলিত)
  • CuSO4 (দ্রবন)
  • FeSO4 (দ্রবন)
5k
  • Pb 75%, Sn 5%, Sb 20%
  • Pb 80%, Sn 5%, Sb 15%
  • Pb 70%, Sn 10%, Sb 20%
  • Pb 75%, Sn 10%, Sb 15%
1.3k
  • প্লাটিনাম দ্বারা তৈরি অ্যানোডে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়
  • কপার অ্যানোড ব্যবহৃত হলে দ্রবণের বর্ণ হালকা হয়
  • ইলকট্রো -বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডের ভর বৃদ্ধি পায়
  • প্লাটিনাম দ্বারা তৈরি ক্যাথোডে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়
1.9k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই